আজ বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

Logo
লক্ষ্মীপুরে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় বাড়ছে, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি

লক্ষ্মীপুরে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় বাড়ছে, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এ করোনা কালীন সময়ে লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। কমে আসছে সিজারের সংখ্যাও। মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। এতে করে দিন দিনেই বেড়েই চলছে রোগীর সংখ্যা। অপরদিকে নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বাড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। বিনা খরচে ও দূর্ভোগমুক্ত রোগীদের সেবাসহ নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে চিকিৎসক। নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বাড়ায় খুশি দায়িত্বরত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা।

সূত্রে জানায়,  লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে বিনা পয়সায় টিকেট নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন দূরদুরন্ত থেকে আসা অসহায় ও দুঃস্ত নারীরা। পাশাপাশি গর্ভবর্তী নারীরাও এ ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে সেবা নিচ্ছেন। গত এক বছরে গর্ভবর্তী,সাধারন,শিশু ও কিশোরসহ কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। যেখানে এ ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত একাধিক সিজার করা হতো। সেখানে মাসে এখন গড়ে ৮/১০ টা সিজার করানো হয়। এর আগে এ সংখ্যা ছিল চারগুন।

অপরদিকে নরমাল ডেলিভারী  বাড়ছে আগের চেয়ে কয়েকগুন বেশি।  গড়ে মাসে নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা দেড় শতাধিক । নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বাড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। পূর্বে এ ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালের এমও ক্লিনিকের ডা. হ্যাপী কর্মকার দায়িত্ব নেয়ার পর পাল্টে যায় চিকিৎসা সেবার চিত্র। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট্য লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যানটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

এ দিকে কয়েকজন রোগী ও স্বজনরা জানায়, করোনাকালীন সময়ে অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া যায়না।  কিন্তু সেখানে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র করোনাকালীন সময়ে যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এটি অনেক প্রশাংসার দাবীদার।

এক সময়ে প্রতিজন রোগী আউটডোর দেখাতে হলে ২০/৩০ টাকা টিকেট করে চিকিৎসক সেবা নিতে হতো। এছাড়া গর্ভবতী মায়েরা প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে ক্লিনিকে আসার পর চিকিৎসক ডাঃ হ্যাপী কর্মকার সিজার না করিয়ে নরমাল ডেলিভারী করানোর জন্য চেষ্টা করেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার করতে ২০/২৫ হাজার ও নরমাল ডেলিভারী ৫/১০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে বিনা পয়সা সে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে এ ক্লিনিক থেকে। সিজারের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নরমাল ডেলিভারী সংখ্যা বাড়ায় খুশি রোগী ও স্বজনরা। এতে করে সাধারন মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।

দায়িত্বরত নার্সরা জানায়, করোনাকালীন সময়ে সবাই মাতৃত্বকালীন ও গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে চিকিৎসার মান  অনেক ভালো। রাতদিন কষ্ট করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক সময়ে কিছু টাকা পয়সা রোগীদের খরচ হলেও এখন বিনা পয়সা সব চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন রোগীরা। এটি সম্ভব হয়েছিল ডা. হ্যাপী কর্মকার যোগদানের পর থেকে। পাশাপাশি সব সময় যেন গর্ভবর্তী মায়েরা নরমাল ডেলিভারী হয়, সেদিকে সবার নজর রয়েছে। এতে করে সবাই খুশি।

নিচের লিংকে দেখুন///

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এমও ক্লিনিক ডা: হ্যাপী কর্মকার বলেন,  করোনাকালীন সময় থেকে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ডেলিভারী সেবা চলমান রয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডাক্তারদের ২৫% উপস্থিতি নিশ্চিতকরনের কথা বলা হয়েছে। এবং সে অনুযায়ী মাতৃমঙ্গলের ডাক্তাররা রোস্টার ভিত্তিক সেবা প্রদান করে আসছে।

সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী করোনাকালীন সময় সকল গর্ভবতী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সর্ম্পূর্নভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নিজে একজন ঝুকিপূর্ন মা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগের মূহুর্তে পর্যন্ত হাসপাতালের সকল সেবা প্রদানসহ ও সিজারিয়ান অপারেশন করে যাচ্ছি। যেখানে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আমার স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে বিরত থাকার কথা ছিল। অথচ বর্তমানে একটি চক্র অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের বদনাম রটানোর চেষ্টা করছে।

এছাড়া বিনা খরচে ও দূর্ভোগমুক্ত রোগীদের সেবাসহ নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন এ  চিকিৎসক। পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বাড়ায় খুশি দায়িত্বরত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা। প্রতিনিয়ত নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও সকল ধরনের ঔষধ পায় সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারন মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায়। এরপরও যদি কোন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ক্লিনিকের কোন কর্মচারীর মাধ্যমে হয়রানী হয়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact