আজ শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

Logo
মেঘনায় বরযাত্রীর ট্রলার ‍ডুবি,কনেসহ ৭জনের লাশ উদ্ধার,নিখোঁজ অনেকেই

মেঘনায় বরযাত্রীর ট্রলার ‍ডুবি,কনেসহ ৭জনের লাশ উদ্ধার,নিখোঁজ অনেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কনেসহ সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বেশ কয়েকজন। নিহতদের লাশ মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে টাংকির বাজার থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে টাংকিরখাল-ঘাসিয়ারচর এলাকার মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ার নলেরচর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বিকালে ভোলার মনপুরার উদ্দেশে বর ও কনেসহ ৭০-৭৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার রওনা দেয়। ট্রলারটি টাংকিরখাল-ঘাসিয়ারচর এলাকার মেঘনা নদীতে পৌঁছলে জোয়ারের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

এতে ট্রলারে থাকা সব যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। এদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতার দিয়ে কূলে উঠে এলেও বেশির ভাগ যাত্রী নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ট্রলার ও নৌকার মাধ্যমে এগিয়ে গিয়ে অন্তত সাতজনের লাশ এবং ৪০জনকে জীবিত উদ্ধার করে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ও রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলাইমান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখন পর্যন্ত কনেসহ সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে।

মৃত সাতজনের মধ্যে কনে তাসলিমাসহ তিন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। কনে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকার ইব্রাহীম সওদাগরের মেয়ে।

নিহত অন্যরা হলেন- হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের মোহম্মদপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে আসমা বেগম (১৯), সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার লামিয়া (২), একই এলাকার আলমগির হোসেনের মেয়ে লিলি আক্তার (৮), হাতিয়ার নলেরচরের কালাদুর গ্রামের ফয়জ্জুল্লার মেয়ে হোসনে আরা বেগম (৫), চানন্দী ইউনিয়নের পূর্ব আজিম নগর গ্রামের আলা উদ্দিনের স্ত্রী রাহেনা বেগম (৩০), একই এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী নুরজাহান (৬৫)।

দুর্ঘটনার পরপরই হাতিয়া ও বড়খেরী নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযানে নামে। তবে সন্ধ্যা নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান কিছুটা থেমে যায়।  হাতিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আকরাম উল্লাহ ও বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান বলেন রাত নেমে আসায় আমরা উদ্ধার অভিযান এখন বন্ধ রাখলেও সকালে আবার শুরু করবো।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মোমিন বলেন, নিহত সাতজনের পরিবারকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া আরও মৃতদেহ পাওয়া গেলে তাদেরকেও অনুরূপভাবে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact