আজ শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ১২:২২ অপরাহ্ন

Logo
মেঘনায় দুইমাসের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও জেলেরা কোন নির্দেশ মানছেনা

মেঘনায় দুইমাসের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও জেলেরা কোন নির্দেশ মানছেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় দুইমাস সকল ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও জেলেরা কোন নির্দেশ মানছেনা। নিষেধাজ্ঞার সময় মাসে প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি হারে ভিজিএফের চাউল দেয়া হয়। কিন্তু এখনো তা দেয়া হয়নি। তাই পেটের দায়ে নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত জেলেদের নাম তালিকাভুক্ত না করে অন্যদের তালিকাভূক্ত করার অভিযোগ করেছেন পেশাদার জেলেরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা॥

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়. জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ হাজার নিবন্ধিত। সবাই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকার মেঘনা নদীর ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষনা করা হয়। ইলিশ উৎপাদন ও জাটকা সংরক্ষনের জন্য ১ মার্চ-৩০ এপ্রিল দুই মাস পর্যন্ত সকল ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এসময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষন, আহরন, পরিবহন, বাজারজাত করন ও মজুদকরন নিষিদ্ধ রয়েছে।


মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের জেলে নিজাম মাঝি,মনির হোসেন মাঝি,সালামত উল্যাহসহ অনেক জেলে অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২দিন পার হলেও এখনো অনেক জেলে ভিজিএফের চাল পায়নি। এ নিষোজ্ঞার দুই মাস এবং পরে মে-জুন আরো দুই মাসসহ ৪ মাস প্রত্যেক জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে প্রতি মাসে ভিজিএফের চাউল দেয়া হবে। কিন্তু এখনো তা দেয়া হয়নি। এ কারনে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা মানছেনা।
পাশাপাশি অন্য কোন বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে তারা নদীতে মাছ শিকারে যাচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন জেলেরা। প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অন্তভূক্ত না করে অন্যপেশার লোকজনকে তালিকায় অন্তভূক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রকৃত জেলেরা।

এ দিকে নদী উপকূলে বসবাসকারী একাধিক ব্যাক্তি জানান, মৎস্যবিভাগ,নৌ-পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদীতে মাছ শিকারে যায় জেলেরা। প্রচুর পরিমান জাটকা ধরা পড়েছে জালে। এসব মাছ রাতের আধাঁঁরে নদীর পাড়ে বিক্রি করা হয়। নদীতে অভিযানে নামার আগ মূহুর্তে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেলেদেরকে সর্তক করে দেয় কর্মকর্তারা। সরকার যে উদ্দেশ্য এ কর্মসুচি হাতে নিয়েছে,সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা করেন স্থানীয়রা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো বিল্লাল হোসেন মাছ ধরার কথা স্বীকার করে বলছেন, গত ২২দিনে নদীতে প্রায় দুই শতাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুই লক্ষাধিক কারেন্ট জাল জব্দ করে করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য বিভাগের চট্রগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক এএইচএম মহিব বলেন, প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তালিকায় অনিয়ম পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত বছর অভিযান সফল হওয়ায় মাছের উৎপাদন বাড়ছে। এবারও অভিযান সফল হওয়ার আশা করেন মৎস্য কর্মকর্তা।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact