আজ রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

Logo
হঠাৎ সংঘাত, রক্তপাত নিয়ে নানা প্রশ্ন

হঠাৎ সংঘাত, রক্তপাত নিয়ে নানা প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক:

শুরুটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সমর্থকরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আসছিলেন। ছোট-খাটো কিছু বিক্ষোভও করে আসছিলেন তারা। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠানকালে কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না দিতে বলা হয়।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দেয়া হয় কঠোর হুঁশিয়ারি। তবে হুঁশিয়ারি দিয়েই থেমে থাকেনি সংগঠনটি। সরাসরি অ্যাকশনে নেমে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২৩শে মার্চ টিএসসিতে বাম সংগঠনগুলোর মোদি বিরোধী সমাবেশে হামলা হয়।

হামলা হয় পরেও। এসব হামলায় আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। এরইমধ্যে মতিঝিলে নূরুল হকের নুরের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। হেফাজতে ইসলাম মোদির সফরের প্রতিবাদ করলেও কোন ধরনের কর্মসূচি না দেয়ার কথা জানায়। এতে ধারণা করা হয়েছিল- পরিস্থিতি শান্তই থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি চূড়ান্ত খারাপের দিকে যায় শুক্রবার জুমার নামাজের পরপর।

বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমা শেষে হেফাজত সমর্থক এবং একদল মুসল্লি মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেয়া যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় সরকারি দলের সমর্থকরা মসজিদের বাইরে এবং হেফাজত সমর্থকরা ভেতরে অবস্থান নেন।

অ্যাকশনে নামে পুলিশও। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘাত চলতে থাকে। সরকার সমর্থকদের অনেককে এসময় হ্যালমেট পরা অবস্থায় দেখা যায়। বায়তুল মোকাররমের এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে হেফাজত হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত হাটহাজারীতে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন চারজন। একইদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারা যান একজন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তত আট জন নিহত হয়েছেন। এর জেরে শহরজুড়ে চালানো হয়েছে তাণ্ডব। হামলা হয়েছে সরকারি অফিস, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায়।

প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের স্বল্পসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির প্রতিবাদে হামলা ও সংঘাত তৈরি করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম সংগঠনগুলোর বিক্ষোভে দফায় দফায় হামলার যৌক্তিকতা কি? এসব হামলার আগে যেভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে তা কি শোভন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। পরে হেফাজতের কর্মীরাও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এসব হামলায় কোন মামলা হয়নি, গ্রেপ্তার হননি কেউ। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে এ দেশে কি দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে?
দ্বিতীয়ত, সব রক্তপাতের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বায়তুল মোকাররমে সংঘাতে ঘটনা। নানা সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে, পরিকল্পিতভাবেই সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেদিন আগে থেকেই বায়তুল মোকাররমে অবস্থান নেন। তাদের অনেকে সেখানে জুমার নামাজও আদায় করেন। পরে দ্রুতই মোদিবিরোধী মিছিল প্রতিরোধে নেমে পড়েন। এটা কতুটুকু প্রয়োজন ছিল সে প্রশ্ন সরকারি দলের ভেতরেও ওঠেছে।
তৃতীয়ত, হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কী প্রেক্ষাপটে গুলি হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। শুরুর দিকে সংঘাত এড়ানোর সুযোগ খোঁজা হয়েছিল কি না তার উত্তর খুঁজছেন অনেকে।
সবচেয়ে বড় বিষয় যেটি আলোচনা হচ্ছে, নেতানেত্রীদের সফরের প্রতিবাদ দুনিয়াতে নতুন কিছু নয়। পরাক্রমশালী সদ্য প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সফরের প্রতিবাদে জার্মানি, ভারতসহ অনেক দেশেই বিক্ষোভ হয়েছে। এমনকি মোদির বিরুদ্ধে ভারতেও বিক্ষোভ হয় প্রায়ই।

বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদির সফরের কোন প্রতিবাদই করা যাবে না এ নীতি কেন নেয়া হয়েছিল তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। সামান্য প্রতিবাদ বিক্ষোভে সফর ম্লান হওয়ার কোন সম্ভাবনাই ছিল না। অথচ হার্ডলাইনের কারণে এতোগুলো প্রাণ ঝরে গেলো। আখেরে কারোই লাভ হলো না। ক্ষতি হলো তাদের যারা তাদের প্রিয়জন হারালেন।

 

সূত্র-মানবজমিন


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact