আজ রবিবার, ০২ মে ২০২১, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে সড়ক দূর্ঘটনা যুবলীগ নেতা নিহত,আহত-এক স্বাস্থ্যবিধি মনে চলুন,সরকার আপনাদের পাশে আছে: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বাস চালুর দাবিতে বিক্ষোভ লক্ষ্মীপুরে চিরনিদ্রায় সাংবাদিক ফয়সল নিষেধাজ্ঞার দুই মাস পর মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে খালি হাতে ফিরছে জেলেরা লক্ষ্মীপুরে হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ উপহার দিলেন পৌর মেয়র লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মাসুম ভূঁইয়ার ইফতার প্রতিবন্ধী অসহায়দের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রীন লক্ষ্মীপুর নিষেধাজ্ঞার দুইমাস পর মেঘনায় মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলেরা লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন জসিম উদ্দিন
স্বাস্থ্যবিধি মনে চলুন,সরকার আপনাদের পাশে আছে: প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্যবিধি মনে চলুন,সরকার আপনাদের পাশে আছে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মনে চলুন। নিজে সুরক্ষিত থাকুন, অন্যকেও সুরক্ষিত রাখুন। সার্বিক সহায়তা নিয়ে সরকার আপনাদের পাশে আছে।

রবিবার করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, আজকে যারা ঘরে বসে বিবৃতি দিচ্ছে, তারা কি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে? আজকে যারা সরকারের সমালোচনা করছে, জনগণের জন্য তারা কী করেছে। শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা সরকার পতনের কথা বলে, তারা কয়জন মানুষের উপকার করেছে? এ দেশের মানুষ কিছু পেয়ে থাকলে আওয়ামী লীগের আমলেই পেয়েছে। জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। জাতির পিতা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করতে চাই।

সরকার প্রধান বলেন, ঈদ উৎসব তো আছেই। এটা সবাই উদযাপন করবেন। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ঈদের আনন্দ করবেন। কিন্তু যারা মারা গেছে, তাদের কথাও ভাবুন। নিজের জীবন বিপন্ন করে উৎসব নয়। মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। গরম পানির ভাপ নেয়া, গরম পানি খাওয়ার মতো বিষয়গুলো যত্ন সহকারে মানার জন্য আমি সবার প্রতি অনুরোধ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাইরে থেকে ভাইরাস নিয়ে এসে নিজের পরিবারের ক্ষতি করবেন না। আমরা যে নির্দেশনাগুলো দিচ্ছি, সেগুলো মানতে হবে। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়গুলো মানতে হবে। আপনারা সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মানুন। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আমরা সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি।

প্রসঙ্গত করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আওতায় সাড়ে ৩৬ লাখ পরিবার পাবে নগদ টাকা পাবে। ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়া হবে প্রত্যেক পরিবারকে।

নগদ সহায়তা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, রিকশা ও ভ্যানচালক, মোটরশ্রমিকসহ কর্মহীন বিভিন্ন পেশার মানুষ পাচ্ছেন আড়াই হাজার টাকা করে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নগদ, বিকাশ, রকেট এবং শিউরক্যাশের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জিটুপি (গর্ভনমেন্ট টু পার্সন) ভিত্তিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে এসব পরিবারের কাছে।

এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। এ বাবদ সরকারের ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৪ এপ্রিল সংঘটিত ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ৩৬টি জেলার ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ১০ হাজার ৩০১ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৯,৩২৬ হেক্টর ফসলি জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়। এতে ১ লাখ কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া কভিড-১৯ এর ফলে কর্মহীন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদেরকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা হারে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচেনার সুপারিশ করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ বাবদ ৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। ‌

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৩৫ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ মে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের জিটুপি পদ্ধতিতে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এবারের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অর্থ বিভাগের বাজেটের অধীন ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় তহবিল’-এ বরাদ্দ অর্থ থেকে যোগান দেয়া হচ্ছে।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact