আজ বুধবার, ২১ Jul ২০২১, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

Logo
জনবল সংকটে বেহাল লক্ষ্মীপুরে রায়পুর হ্যাচারী, উৎপাদন ব্যাহত

জনবল সংকটে বেহাল লক্ষ্মীপুরে রায়পুর হ্যাচারী, উৎপাদন ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জজর্রিত লক্ষ্মীপুরে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্রটি। গত ৭বছর ধরে ৮৩টি পদের মধ্যে ৫৯টি পদই রয়েছে খালী। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পোনা উৎপাদন। জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। কেন্দ্র চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন না হওয়ার আশংকা রয়েছে।

৫৪ একর ভূমির ওপর ১৯৮২ সালে দেশের বৃহত্তম লক্ষ্মীপুর রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। এর মধ্যে সংস্কার না হওয়ায় ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী। ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আছেন মাত্র ২৪ জন।

৫৯টি পদ শূন্য। এর মধ্যে একজন উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ছয়জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চারজন মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজান, একজন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৫৯টি পদ দীর্ঘ ৭বছর ধরে শূণ্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের জন্য ৭টি আবাসিক ভবন রয়েছে। লোকবল না থাকায় চারতলা একটি ও একতলা তিনটি ভবন পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

রক্ষণা বেক্ষণের অভাবে সেগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। এসব ভবন বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। পুকুরের পাড়গুলো ভেঙে গেছে। মৌসুমের প্রায় সময় বেশিরভাগ পুকুরের পানি থাকেনা। এতে করে রুই, কাতল, কালিবাউশ, মৃগেলের মা মাছ মরে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, জনবলন সংকটের কারনে পোনা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। চাষী নয়,এমন চাষীরা পোনা পাচ্ছে।প্রকৃত মৎস্যচাষীরা পোনা পাচ্ছেনা। বেসরকারি হ্যাচারিগুলোর পোনার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় সবাই ঝুঁকছে সরকারি হ্যাচারির দিকে। এসব অনিয়ম ও জনবল সংকট দুর হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং পুরোনা ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে আশা করেন স্থানীয়রা।

হ্যাচারীর কর্মচারীরা জানান, জনবল সংকটের কারনে রাত-দিন কাজ করতে হয়। জনবল না থাকায় ঠিকমত পোনা উৎপাদন করা যাচ্ছেনা। হিমশিম খেতে হয়। তারপরও প্রতিষ্ঠানের পোনা উৎপাদন ও প্রশিক্ষন কোন রকম চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারনে অসুস্থ্য হয়ে পড়তে হয় । এক সময় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা যে কাজ করত, এখন সে কাজ করানো হয় হ্যাচারীর গার্ড ও ফিসারমানদের দিয়ে। দ্রুত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের দাবী তাদের।

 


উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার জানান,  দীর্ঘ ৭বছর ধরে ৮জন ফিসারম্যানসহ ৫৯টি পদ খালি রয়েছে। জনবল সংকট না থাকলে এ বছর চাহিদার চেয়ে দ্বিগুন রেণু উৎপাদন করা যেত। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। তারপরও গত অর্থ বছরে প্রায় ৬২ লাখ টাকার রেণু-পোনা বিক্রির হয়েছে। এ বছরে লক্ষ্যমাত্রা অজর্ন না হওয়ার আশংকা করছেন তিনি।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact