আজ রবিবার, ১৮ Jul ২০২১, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে ১৭দিনে করোনায় মৃত্যু ৭ ,আক্রান্ত ৭৭৭জন লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আহসান উল্যাহ হিরন গ্রেপ্তার নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী লঞ্চে যাত্রীর চাপ, স্বাস্থ্যবিধি উধাও লক্ষ্মীপুরে ৬ ইউপি চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহন লক্ষ্মীপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাঝে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরন বৃহস্পতিবার থেকে চলবে গণপরিবহন, খুলবে দোকানপাট লক্ষ্মীপুরে ‘খুঁজে খুঁজে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন সাংবাদিক জয়’ শিরোপা অবশেষে মেসির আর্জেন্টিনার ঠাকুরগাঁওয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক তানুকে গ্রেপ্তার,মুক্তির দাবী
লক্ষ্মীপুরে ঘাট ইজারা নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বিআইডব্লিউটি এ কর্মকর্তা লাঞ্চিত

লক্ষ্মীপুরে ঘাট ইজারা নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বিআইডব্লিউটি এ কর্মকর্তা লাঞ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ-রুটের লক্ষ্মীপুর অংশে মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চ ও ফেরীঘাটের মালিকানা ও ইজারা নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। এবার ইজারা বুঝিয়ে দিতে এসে লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ এর উপ-পরিচালক একেএম কাউসারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফেরীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এবিষয়ে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ এর উপ-পরিচালক একেএম কাউসারুল জানান, ইজারাদারকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা হবে। এরপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি অর্থ বছরের জন্য লক্ষ্মীপুরের দুইটি প্রভাবশালী গ্রুপ পৃথক পৃথক দু’টি কার্যালয় থেকে ঘাটটি ইজারা নেয়। ফলে ঘাট দখল নিয়ে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এতে যে কোন সময় ঘাট এলাকায় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘাটের মালিকানা জেলা পরিষদ দাবি করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ইসমাইল হোসেন পাঠান নামে সাবেক এক আওয়ামীলীগ নেতাকে ইজারা দিয়েছে।

২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ইজারার মূল্য ধরা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত (২৮ জুন) চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৫৪ লাখ টাকা ইাজারা মূল্য নির্ধারণ করে বিআইডব্লিউটিএ এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের চাঁদপুর কার্যালয় থেকে ইজারা নেন শিমুল চক্রবর্তী নামে আরেক ব্যক্তি, যিনি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। ইসমাইল হোসেন ও শিমুল চক্রবর্তী নামমাত্র পৃথক ইজারা আনলেও এদের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা।
অন্যদিকে শিমুল চক্রবর্তীর সাথেও রয়েছে জেলার অনেক প্রভাবশালী নেতা। পৃথক এ দুই ইজারা গ্রহীতার সাথে প্রভাবশালী এসব ছাত্রনেতাদের সম্পৃক্ততা থাকার কারণে ঘাট দখল নিয়ে দু’ পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

৩০ জুন বুধবার সকালে ওই ঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে দু-পক্ষ হট্টগোল করতে দেখা গেছে। মজুচৌধুরীরহাটেও প্রকাশ্যে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঘাট এলাকায়। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বিকেলের দিকে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক এ.কে.এম কায়সারুল ইসলাম তাদের ইজারাদার শিমুল চক্রবর্তীকে ঘাট বুঝিয়ে দিতে গেলে লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

এদিকে, মজু চৌধুরীরহাট ঘাটের পূর্ববর্তী ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন। শেষদিন দুপুরে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সরেজমিনে ঘাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হয় ইসমাইল হোসেনের কাছে।
২০১৭ সালে মজুচৌধুরীরহাট ঘাটটি নৌ-বন্দর হিসেবে গেজেটভূক্ত হওয়ায় নিয়মানুযায়ী ঘাটের দায়িত্ব চলে যাওয়ার কথা বিআইডব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষের হাতে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বিগত বছরগুলোতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে ঘাটের ইজারা দিয়ে আসছিলো লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ। কিন্তু বর্তমানে নদী বন্দরের আওতাধীন মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, পার্কিং ইয়াড ও শুল্ক আদায়ের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বুঝে নিয়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জন্য ইজারা মূল্য ও আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ৫৪ লাখ টাকায় ঘাটটির ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ইজারাদার এর পক্ষে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ভুলু বলেন, ফেরীঘাটসহ মজু চৌধুরীর হাটটি নৌ-বন্দরের সীমানা হিসেবে ২০১৭ সালে গ্রেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে যায়। আমরা আগামী ১ বছরের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে মজু চৌধুরীরহাট ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। পূর্বের ইজারাদারের মেয়াদ (৩০জুন) শেষ হয়েছে। ১লা জুলাই ঘাটের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। তবে জেলা পরিষদ নতুন করে অন্য কাউকে ইজারা দেওয়া আইন সম্মত হয়নি।

এদিকে জেলা পরিষদ থেকে ইজারাপ্রাপ্ত ইসমাইল হোসেন পাঠান জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে মজু চৌধুরীর হাট ঘাটটি ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে আমাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘাটটি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জানান, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মজু চৌধুরীরহাট হতে ইলিশা জংশন আন্ত:বিভাগীয় ফেরীঘাটের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় পূর্ব থেকে এ ঘাটের ইজারা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে হয়ে আসছে। সেই আলোকে বর্তমান ইজারাধারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে ইজারাদার ইসমাইল হোসেন পাঠানকে ঘাটটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিভাগীয় কমিশনার ও আন্ত:মন্ত্রণালয়ের নতুন কোন নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক এ.কে.এম কায়সারুল ইসলাম জানান, মজু চৌধুরীরহাট ঘাটটি নৌ-বন্দর হিসেবে গেজেটভূক্ত হওয়ার পর থেকে এ ঘাটের সকল দায়-দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের। সে অনুযায়ী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য ঘাটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact