আজ বুধবার, ২১ Jul ২০২১, ১২:১৪ অপরাহ্ন

Logo
লক্ষ্মীপুরে প্রদীপের অপচিকিৎসা বন্ধ হবে কবে?

লক্ষ্মীপুরে প্রদীপের অপচিকিৎসা বন্ধ হবে কবে?

মো. ইউসুফ:

লক্ষ্মীপুরে শহরের কলেজ রোডের লুবনা ফার্মেসির মালিক প্রদীপ মজুমদারের অপচিকিৎসা বন্ধ হবে কবে?। ডাক্তার না হলেও ডাক্তারী করছেন। তবে প্যাডে ডাক্তার না লিখলেও লিখছেন, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল সাইন্স, এ ডিগ্রি। চেম্বারে বসে এ ডিগ্রিতে রোগী দেখতে পারেন কিনা প্রশ্ন সাধারন মানুষের। এ শহরে সেক্সুয়াল অথবা যৌন ডাক্তার নামে প্রদীপের পরিচয়। তার দোকান, গুদাম, বাসায় দেশী-বিদেশী সেক্সুয়াল ঔষধের সমাহার।

সে নিজেকে সব রোগের বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে থাকেন। প্রদীপ মজুমদারের অপচিকিৎসার অনেক গুলো ব্যবস্থাপত্র এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

এর আগে এসব অনিয়মের দায়ে প্রদীপ মজুদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দু’মাস জেল খেটেছেন প্রদীপ। কিন্তু এরপর বন্ধ হচ্ছেনা তার অপচিকিৎসা। স্বর্ণকারের ব্যবসা করতেন। পরে সে ব্যবসা বাধ দিয়ে প্রদীপ মজুমদার এখন ডাক্তার হলেন। কয়েকটি ব্যবস্থাপত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, রোগী মানিক মিঞাকে তার ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ দেয়া হয় সেক্সের জন্য। ব্যবস্থাপত্র লেখা হয় বাংলা ইংরেজী দু’ভাষায়। হাতের লেখায় মনে হচ্ছে ৫ম শ্রেণির ছাত্রের মত। মানিক মিঞার বয়স হলো (৪৬), এ রোগীকে তিনটি সেক্সের ওষুধ দেয়া হয়।

প্রতিদিন এ তিনটি খেতে হবে। যাকে বলে হাই ডোজ। এ ওষুধ মানিক মিয়ার দু’ধরণের ক্ষতি হতে পারে একটি যে কোন সময়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে অথবা আজীবন তার যৌন শক্তি হারিয়ে যাবে। ১০/১৫ দিন হয়তো মানিক মিঞা ভাল থাকতে পারে। এ মন্তব্য সদর হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের।

একজন রোগীর নাম শামছুদ্দিন, বয়স তার (৫৭) এ রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। তাকে যে ডোজ এ ওষুধ খেতে দেয়া হয়, এ ডোজ কোন ভাবে মিলছেনা নিয়ম মতে। অজ্ঞতার অভাবে সঠিক ডোজ দিতে পারেনি প্রদীপ মজুমদার। আরেক রোগীর নাম মিতু আক্তার, তার বয়স (২৫), তাকে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেয়া হয়। সেখানেও সঠিকভাবে ডোজের নিয়ম নেই। এভাবে আরও অসংখ্য রোগী প্রতিদিন দেখছেন প্রদীপ যার একশত ভাগের ৯৯ ভাগই ভুল চিকিৎসা। এভাবে প্রদীপ অপচিকিৎসা দিয়েও বসে নেই, বিক্রি করছে চায়না হারবাল, ভারতীয় হারবাল যার মূল্য ঢাকার মিটফোর্ডে ৩০/৪০ টাকা, এখনো বিক্রি করছে ৬০০/৭০০ টাকা। এসব ওষুধের গায়ে কোন মূল্য লেখা নেই।

সে সরকারি অনুমোদনহীন, ডিএআর নাম্বারবিহীন ওষুধ বিক্রি করে থাকে। প্রদীপ মজুমদার এখানেও বসে নেই সে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল পর্যায়ের মানুষের সকল রোগের চিকিৎসা করে থাকে। শুধু তাই নয় গরীব অসহায় রোগীদের সাথে প্রতরণা করে তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে অপচিকিৎসার নামে। জেলা শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে তার নিযুক্ত অ্যাজেন্ট রয়েছে। যাদের মাধ্যমে রোগী আসে। তাদেরকে সে খুশী করছে টাকা দিয়ে। আর এসব রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া।

এ দিকে নাম প্রকাশ না করা শর্তে সোমবার দুপুরে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা ২জন রোগী জানান, পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শে প্রদীপ মজুমদারের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন তারা। সে অনেক বড় ডাক্তার হিসেবে তারা জানতেন। সে হিসেবে জ্বর,সর্দি নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। কিন্তু তার কথা বার্তা একজন চিকিৎসকের মত মনে হয়নি। এছাড়া সে অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে দেন। যদি সত্যিকার অর্থে ডাক্তার না হয়ে ডাক্তারী করে থাকেন। তাহলে মৃত্যু ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহবান।

এ ব্যাপারে প্রদীপ মজুমদার জানান,ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল সাইন্স, এ ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। সে অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এর বেশি কিছু নয়।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জেলা তত্ত্বাবধায়ক( ড্রাগ সুপার) সুশীল কুমার ডালী বলেন, চেম্বারে বসে কারা চিকিৎসা চলায়। এ ধরনের একটি তালিকা চেয়েছে সিভিল সার্জন। সে অনুয়াী সিভিল সার্জন অফিসে ২৫জনের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: আবদুল গফ্ফার জানান, ডাক্তার না হয়ে প্রদীপ মজুমদার চিকিৎসা করতে পারেন না। যেটা সম্পর্ন বেআইনী। তার অপচিকিৎসার কারনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সাথে সাথে মৃত্যু ঝুকিও রয়েছে। এ অপিচিকিসা নিয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact