আজ মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে চারসন্তানসহ মায়ের বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা বসতভিটি বিক্রি না করায় মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্চিত,প্রতিবাদে বিক্ষোভ একাদশ-দ্বাদশের ফল মিলিয়ে এইচএসসির ফলাফল লক্ষ্মীপুরে চারদিন পর দুই সন্তান ও মায়ের খোঁজ মিলেছে লক্ষ্মীপুরে নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁধ উদ্বোধন করেছেন এমপি নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে মাটি চাপা পড়ে নিখোঁজ-১,জীবিত উদ্ধার -৩ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ঘিরে ‘থ্যাংক ইউ পিএম’ ক্যাম্পেইন ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ১০ কোটি মানুষ টিকা পাবেন: স্বাস্থ্য সচিব লক্ষ্মীপুরে টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে রশি ছিড়ে শ্রমিকের মৃত্যু লক্ষ্মীপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সনদ বিতরন
দাদনের টাকার জেরে ৪ জেলেকে হত্যা, তিনজন গ্রেপ্তার

দাদনের টাকার জেরে ৪ জেলেকে হত্যা, তিনজন গ্রেপ্তার

মাহাবুবুল আলম মিন্টু:

দাদনের টাকার জের নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতির দুই জেলেসহ চার জেলেকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে হত্যা করার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার দুই মাসের ব্যবধানে এ রহস্য উদঘাটন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২০ মে চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া এলাকার অদূরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ওই চার জেলেকে ফেলে হত্যা করা হয়। এর আগে হত্যাকারীরা কৌশলে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে দেয়। চা পান করে তারা ঘুমিয়ে পড়লে তাদেরকে সাগরে ফেলে দেয়। হত্যাকারীরা প্রথমে ঘটনাটি জলদস্যুতা বলে প্রচার করলেও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এসময় ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকারীরা চট্টগ্রামের বাকলিয়া ফিশারিঘাটের আড়ৎদারের সাথে এক লাখ টাকা চুক্তিতে এসব জেলেদের হত্যায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ফিশারিঘাট এলাকার আড়ৎদার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার আবুল কাশেমের ছেলে মো. ইউছুফ মিয়া, যশোরের চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে মো. রাসেল ও লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পূর্ব চরফলকন এলাকার আবি আব্দুল্লার ছেলে আল-আমিন। এদের মধ্যে আল-আমিন এবং রাসেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বেলাল হোসেন। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত এ তিনজন এখন কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুমন ও সোহাগকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

হত্যাকান্ডের শিকার চার জেলে হচ্ছেন রামগতি উপজেলার চরআলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালী গ্রাম এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে নাসির উদ্দিন , তার শিশু ছেলে মো. রিয়াজ , নোয়াখালীর চরজব্বর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. করিম এবং একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে মো. মিরাজ। এ ঘটনায় ১৩ জুন নাসির মাঝির স্ত্রী মীরজান বেগম বাদি হয়ে রাসেলের নাম উল্লে করে আরো অজ্ঞাত ২-৩জনকে অভিযুক্ত করে রামগতি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরআলেকজান্ডারে সোনালী গ্রাম এলাকার নাসির উদ্দিন মাঝী নিজের ট্রলার দিয়ে সহযোগি জেলেদের নিয়ে নদী ও গভীর সাগরে মাছ ধরে বিভিন্ন ঘাট এলাকায় আড়তে বিক্রি করে করত। এরই মধ্যে প্রায় ১০ মাস আগে তিনি চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ফিশারিঘাটের আড়তদার মো. ইউছুফ মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দাদন নেন।
নিয়মিত ওই আড়তে মাছ বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। ঘটনার কিছুদিন আগে অভাব-অনটনে পড়ে নাসির ওই মাছঘাটের অপর এক আড়তদারের কাছ থেকে কিছু টাকা দাদন নিয়েছেন। এতে ইউছুফ ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১২ মে ট্রলারসহ নাসির মাঝীকে ঘাট এলাকায় আটক করে রাখে। নাসির কৌশলে ট্রলার নিয়ে পালিয়ে এলাকায় চলে আসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউছুফ ট্রলারটি নিজের কব্জায় নেওয়াসহ নাসির মাঝিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী নাসির মাঝীর ট্রলারের সহযোগী জেলে রাসেল, সুমন, সোহাগ ও আল-আমিনের সঙ্গে তিনি এক লাখ টাকায় চুক্তি করেন। তার পরিকল্পনা ও চুক্তি অনুযায়ী ১৬ মে ওই চার জেলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারের স্লাইসগেট বাজারের একটি ওষুধের দোকান থেকে ঘুমের ১০টি ট্যাবলেট কিনেন। পরদিন নাসির মাঝি ও অপর তিন জেলেসহ ওই চারজন মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। নদীতে মাছ কম ধরা পড়ার অজুহাত দেখিয়ে কৌশলে নাসির মাঝিকে হত্যাকারীরা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় সাগরে মাছ ধরার জন্য নিয়ে যান। হত্যাকারীরা ইউছুফের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলতি বছরের ২০ মে সেখানে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী চায়ের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে নাসির মাঝি, রিয়াজ, করিম ও মিরাজকে খেতে দেয়। চা খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়লে ওই চারজন মিলে তাদেরকে সাগরে ফেলে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বেলাল হোসেন জানান, এ ঘটনার প্রথমে কোনো কুল পাওয়া না গেলেও মোবাইল ট্র্র্যাকিংসহ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রাসেলকে আটকের মধ্যে দিয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। পরে তিন আসামিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এ হত্যাকান্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। আর এ ক্ষেত্রে পুলিশের আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না। ইতিমধ্যে দুই আসামী আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য দুই আসামীকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact