আজ রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম:
একাদশ-দ্বাদশের ফল মিলিয়ে এইচএসসির ফলাফল লক্ষ্মীপুরে চারদিন পর দুই সন্তান ও মায়ের খোঁজ মিলেছে লক্ষ্মীপুরে নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁধ উদ্বোধন করেছেন এমপি নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে মাটি চাপা পড়ে নিখোঁজ-১,জীবিত উদ্ধার -৩ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ঘিরে ‘থ্যাংক ইউ পিএম’ ক্যাম্পেইন ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ১০ কোটি মানুষ টিকা পাবেন: স্বাস্থ্য সচিব লক্ষ্মীপুরে টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে রশি ছিড়ে শ্রমিকের মৃত্যু লক্ষ্মীপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সনদ বিতরন লক্ষ্মীপুরে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন নিখোঁজের তিনদিনেও লক্ষ্মীপুরে মা ও দুই মেয়ের হদিস নাই
জোয়ারের পানিতে প্লাবিত লক্ষ্মীপুরের মেঘনার উপকূলীয় এলাকা

জোয়ারের পানিতে প্লাবিত লক্ষ্মীপুরের মেঘনার উপকূলীয় এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর।
উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যার পানির চাপ ও মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে এভাবে পানি বাড়ছে নদীপাড়ের এলাকায়। অমাবস্যার প্রভাবে নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে আড়াই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানিতে তলিয়ে রয়েছে মানুষের ঘর-বাড়ী। এতে করে দূর্ভোগ আরো বাড়ছে কয়েকগুন।

অন্যদিকে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন আরো প্রকট আকার ধারন করছে। হুমকির মুখে রয়েছে ১০ কিলোমিটার এলাকার কয়েকটি গ্রাম। জোয়ারের পানিতে জেলার কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, সাহেবের হাট, চর ফলকন, পাটওয়ারীর হাট, রামগতির চর আলেকজান্ডার, চর রমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরআবদুল্যাহ, সদর উপজেলা চররমনী মোহন ও রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের নীচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব ইউনিয়ন অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

গত রোববার এবং সোমবার একই কারণে ওইসব এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা সাময়িক দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। কারো কারো বসতঘর এবং গোয়াল ঘরেও ঢুকে পড়ে জোয়ারের পানি।

সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের বাসিন্দা মিন্টু বলেন, দুপুরের দিকে মেঘনা নদীর অতিরিক্ত জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বিকেলের দিকে পুনরায় পানি নেমে যায়। জোয়ারের পানি অনেকের রান্নাঘরের মাটির চুলোয় ঢুকে পড়ায় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

কমলনগরের চরমার্টিন ইউনিয়নের নাসিরগঞ্জ এলাকার শহিদ উল্যা ও গৃহবধু মরিয়ম আক্তার বলেন, গত দুইদিন থেকে জোয়ারের পানি তার কাঁচা ঘরে ঢুকেতেছে। পানি নামার সময় ঘরের ভিটার মাটি ধুয়ে চলে যায়।

রামগতির মেঘনা নদী বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের চর গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন ও রামগতি পৌরসভার বাসিন্দা জাফর আহমদ গনি জানান, গত তিনদিন থেকে অমাবস্যার প্রভাবে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে তাদের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নিমজ্জিত হয়ে যায়। কয়েকঘণ্টা পর পুনরায় জোয়ারের পানি নেমে যায়। চলতি বছরে চার বার জোয়ারের অতিরিক্ত পানিতে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে।

রামগতির বয়ারচর থেকে কমলনগর উপজেলার মতিরহাট পর্যন্ত মেঘনী নদী সংলগ্ন প্রায় ৩৭ কি. মি. এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় অতিরিক্ত জোয়ারের পানি প্রতিনিয়ত উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ করে। জোয়ারের পানি নামার সময় নদীর তীরে ভয়াভহ ভাঙ্গন দেখা দেয়। এছাড়া রাস্তাঘাট ডুবে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে অন্তত ৫ হাজার হেক্টর আমনের আবাদ ও বীজতলা।


লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, সাধারণত অমাবস্যা বা পূর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির স্তর আড়াই থেকে তিন ফুট বৃদ্বি পায়। যার কারণে এ সময়টাতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পাবে উপকূলের বাসিন্দারা।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact