আজ বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

Logo
ওমানে ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষ্মীপুরে তিনজনের মৃত্যুতে দিশাহারা পরিবার

ওমানে ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষ্মীপুরে তিনজনের মৃত্যুতে দিশাহারা পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ওমানে ঘূণিঝড়ে লক্ষ্মীপুরে মামা-ভাগিনাসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হচ্ছে মামা সামছুল ইসলাম ও ভাগিনা আমজাদ হোসেন হৃদয়। অপরজন সামছুল ইসলামের চাচাতো ভাই জিল্লর রহমান। উপার্জন শীল জিল্লুর রহমানকে হারিয়ে পাগল বৃদ্ধ বাবা লুৎফুর রহমানসহ পরিবারের সবাই। একই অবস্থায় অন্য দুই পরিবারেও। পরিবার ও এলাকায় জুড়ে চলছে শোকের মাতম। এখন কি হবে পরিবারের ? কে ধরবে হাল এ কথা বলে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নিহতের স্বজনরা। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে প্রশাসন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরনের জন্য সেদেশের দুতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওমানে নিহত তিনজনের পরিবার সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে ঘরের সামনে বসে রয়েছে। কেউ কোন কথা বলছে না। শুধু স্বজনদের লাশের অপেক্ষায় থাকিয়ে রয়েছে বাড়ির সামনের দিকে। শন্তনা দিতে স্বজনরা আসলেও কিছু কাজে আসছেনা। বিশেষ করে জিল্লুর রহমানের বাবা-মা,স্ত্রী ও চার সন্তানের দিকে তাকানো যাচ্ছেনা। কেউ আসলে দৌড়ে বাবা বিদেশ থেকে কবে আসবে এমন জিজ্ঞাসা করতে থাকে সবাইকে অবুঝ শিশু দুই সন্তান। এক অবস্থায় নিহত সামছুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন হৃদয়ের পরিবারের মধ্যেও।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে গত কয়েক বছর আগে লক্ষ্মীপর সদর উপজেলার পাবর্তীনগরে মকরধ্বজ এলাকার হতদরিদ্র লুৎফুর রহমান দার-দেনা করে ছেলে জিল্লুর রহমানকে চাকুরী করার জন্য ওমানে পাঠান। এর মাঝে কয়েকবার দেশে এসে পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে পূনরায় কর্মজীবন বিদেশে চলে যায়। এরপর সামছুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন হৃদয়কে নিয়ে যায়। তিনজনই থাকতেন ওমানের সাহামে উম্মে ওয়াদি লেবান পারপার নামক স্থানে। কাজ করতেন খেজুর বাগানে। ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় খেজুর বাগানে কাজ করা অবস্থায় ঘূণিঝড় শুরু হয়। এসময় পানির স্্েরাতে ভেসে যায় তারা তিনজন। এর দুইদিন পর ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দুরে জিল্লুৃর রহমান ও সামছুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। বুধবার পাওয়া যায় আমজাদ হোসেন হৃদয়ের লাশ। তাদের তিনজনের মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় জুড়ে দেখা দেয় শোকের ছায়া। পরিবারের চলছে শোকের মাতম।

নিহত জিল্লুর রহমানের বাবা লুৎফুর রহমান জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যাক্তি ছিল জিল্লুর রহমান। তার সংসারে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীসহ ৭জনের সংসার ছিল। তার ওপর নির্ভর করে চলতো সংসার। এখন আমরা কাকে নিয়ে বাঁচব। কোথায় যাব। কি করব। সব শেষ হয়ে গেছে। কিভাবে মানুষের দার-দেনা শোধ করব। আমার ছেলের লাশটুকু যেন সরকার তাড়াতাড়ি আনার ব্যবস্থা করে, সে দাবী জানান তিনি।

জাকির হোসেন,ফারুক হোসেন, মিলন হোসেন ও হৃদয়সহ অনেকেই জানান,অনেক কষ্ট ও দার-দেনা করে তাদেরকে বিদেশে পাাঠানো হয়েছে। টাকা-পয়সা রোজগার করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবে। সে আশা শেষ হয়ে গেছে সবার। তাদের স্ত্রী,সন্তান ও পরিবারের কি হবে। ওমান সরকারের কাছে ক্ষতিপূরন দাবী করেন তারা। পাাশাপাশি দ্রুত তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

তবে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এটি কোনভাবে মেনে নেয়ার মত নয়। নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে প্রশাসন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরনের জন্য সেদেশের দুতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ চেষ্টা চলছে


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact