আজ বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

Logo
মাদ্রাসার ৬ শিক্ষার্থীর চুল কাটলেন শিক্ষক,সমালোচনার ঝড়

মাদ্রাসার ৬ শিক্ষার্থীর চুল কাটলেন শিক্ষক,সমালোচনার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪জন ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে লাঞ্ছিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হামছাদী কাজির দিঘীর পাড় আলিম মাদরাসার দশ শ্রেণীর ৬ ছাত্রের চুল কেটে দিলেন সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির। গত বুধবার ক্লাশ চলাকালীন সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে তারা ক্লাশ না করেই মাদরাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এতে ছাত্র ও অভিভাকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর জেলাজুড়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। মাদরাসার দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল আলম ও ফজলে রাব্বীসহ কয়েকজন জানায়, গত বুধবার তাদের ইংরেজি ক্লাশ চলছিল। এ সময় হঠাৎ করে সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির স্যার কাঁচি (কেঁচি) দিয়ে আমাদের ৬ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনার পর ছাত্ররা ক্লাশ না করে বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাদরাসাটির অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় ছাত্ররা তাদের ক্লাশ শেষ করে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ছাত্র জানায়, ইংরেজি ক্লশের প্রথম ঘণ্টা পড়ার পর হঠাৎ করে মঞ্জুরুল স্যার আমাদের (ক) শাখার ক্লাশে ঢুকে ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়। কিন্তু (খ) শাখার কোন ছাত্রের চুল উনি কাটেনি। আমি মাথা বেল করে ৪ দিন মাদরাসায় যায়নি। পরে স্যার দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এর পরে আমি মাদরাসায় অংশগ্রহণ করি।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) অভিযোগ ওঠা মাদরাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি দাখিল শ্রেণির সকল ছাত্রকে পরীক্ষার আগের দিন চুল কেটে মাদরাসায় আসতে বলেছি। ছাত্ররা আমার কথার অবাধ্য হওয়ার কারণে কয়েক ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছি। আমি ওদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবে থাকা ও নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই চুল কেটে দিয়েছি। তবে আমি কাউকে কোন হুমকির কথা বলিনি।

বামনী ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মন্সী বলেন, মাদরাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামমের আমির হওয়ায় প্রায় সময় ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তার ভয়ে ছাত্রতো দূরের কথা অন্য শিক্ষকরাও নিরুপায় বলে আমি জানি। সে ঐ মাদসারায় জামায়াতের জঙ্গি শাসন করতে চায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তা হলে বিধিমোতাবেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact