আজ সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম:
মেঘনার তীররক্ষা বাঁধের কাজ শুরু, স্বস্তিতে মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা

মেঘনার তীররক্ষা বাঁধের কাজ শুরু, স্বস্তিতে মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেঘনা নদীর তীর থেকে মো. সিরাজুল ইসলামের বাড়ির ৫০ গজ দূরত্বে। তার বাড়ি নবীগঞ্জ এলাকায়। প্রতিনিয়ত সর্বনাশী মেঘনা তাকে চোখ রাঙাচ্ছে বসতভিটা কেড়ে নিতে। আস্তে আস্তে নদী ধেয়ে আসছে তাকে বাস্তুহারা করতে। তীররক্ষা বাঁধই পারে তার বসতভিটা রক্ষা করতে। তাই তিনি বাঁধের আশায় বুক বাঁধছেন। কারণ মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।

রোববার দুপুরে বাঁধের কাজের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এমপি।

মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উন্নত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাই পারে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকা যেন নিরাপদে থাকে। মেঘা এ প্রকল্প সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন মান বদলে যাবে। আমার বাপ-দাদার ঘরভিটা সবই হারিয়েছি, দাদার কবরস্থান ছাড়া কিছু রক্ষা পায়নি নদীভাঙ্গন থেকে। নদী ভাঙ্গার ব্যথা আমি বুঝি-লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নদী বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দুপুরে সাহেবেরহাট ইউনিয়নের পাতাবুনিয়ায় মেঘনার পাড়ে কমলনগর -রামগতি নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার হোসেন আকন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের এমপি মেজর অবঃ আবদুল মান্নান, লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মোঃ গোলাম ফারুক পিংকু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অখিল কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, সিআইপি আবদুল করিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এমকেএম নুরুল আমিন রাজু, কমান্ডার আবু তাহের, সাহেবের হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের প্রমুখ।

দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটা রক্ষায় ও মেঘনার ভাঙ্গন প্রতিরোধে আন্দোলন করে আসছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ। নদীবাঁেধর কাজ শুরু করার আগে মঞ্চের আহবায়ক এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে সংগঠনটি। সকাল ১১টার দিকে সংগঠনটির উদ্যোগে মাতাব্বর হাট বাজার থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে তারা। পরে র‌্যালীটি সভামঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

মঞ্চের আহবায়ক এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, বিগত ৩০বছরে মেঘনা নদীর ধারাবাহিক ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসময় ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা। আজকে নদী বাঁধের দাবিতে আন্দোলনকারীরা নদী বাঁধ উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাস,হুমায়ুন কবির,নিজাম উদ্দিনসহ লাখো মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সময় মতো বাঁধটি তৈরি হলে দুই উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষ তার বসতভিটা রক্ষা পাবে। তীররক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বসতবাড়ি রক্ষায় আশায় বুক বেঁধেছেন। অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তারা।

তারা বলেন, আগে ভাঙন রোধে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ না হওয়ায় ভাঙন রোধ করা যায়নি। তাদের দাবি, মজবুত এবং ঠেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে আমাদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা রক্ষা পাবে। সরকার আমাদের জন্য বাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ যেন সঠিকভাবে কাজে লাগে। এ ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি যেন না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ যেন তদারকি করা হয়। তাহলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ হবে এবং আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও পূরণ হবে।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘মেঘনা নদীর বড়খেরী, লুধুয়াবাজার এবং কাদিরপন্ডিতেরহাট বাজার’ তীররক্ষা প্রকল্প নামের ৩৩.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি ২০২১ সালের ১ জুন পাস করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

গত বছরের ১৭ আগস্ট ই-জিপি টেন্ডার পোর্টাল এবং ১৮ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। টেন্ডার অনুসারে প্রায় শতাধিক লটের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৪০০ মিটার কাজ হবে। তবে উপকূলীয় বাসিন্দাসহ লক্ষ্মীপুরবাসীর দাবি ছিল- ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ না করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করার। এজন্য বিভিন্ন সময়ে তারা আন্দোলন এবং মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন


© স্বত্ব ২০২০ | About-US | Privacy-PolicyContact